ফটো গ্যালারি

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও আন্দোলনের শপথ

পাটশিল্প ধ্বংসের পর চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করা হচ্ছে: মির্জা আলমগীর

পাটশিল্প ধ্বংসের পর চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করা হচ্ছে: মির্জা আলমগীর \

নিজস্ব প্রতিবেদক: খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকের এই দিনে তার দীর্ঘায়ু কামনা করব, নিজেদেরকে সংগঠিত করে তার মুক্তির আন্দোলন করব, এই শপথ আমরা নিই। এটাই হোকে বেগম খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিনে আমাদের শপথ’ ।
এসময় তিনি দেশের বর্তমান পরিস্তি বিষয় নিয়ে বলেন, ‘কোরবানির পরে যে চামড়া দিয়ে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সেটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে এই সরকার। এক সময় পাটশিল্প ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আর আজ ধ্বংস করা হচ্ছে চামড়াশিল্পকে। বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করার সুদূর প্রসারি যে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, সেই কাজ বহুদূর এগিয়ে নিয়েছে এই সরকার।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, ‘দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা এমন কিছু করতে পারছি না, যার মধ্য দিয়ে আমরা তাকে বের করে নিয়ে আসতে পারব। আইন-আদালত আমরা জেনে গেছি- তাদের ভূমিকা কী, তারা কী করছে, না করছে। আমাদেরকে সুসংগঠিত হতে হবে, আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে— এর কোনো বিকল্প নেই।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের উপর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমার কাছে মনে হয় যে, গণতন্ত্রের জন্য বেগম জিয়া এশিয়া মহাদেশে সবচেয়ে ত্যাগ শিকারকারী একজন নেতা। তিনি দীর্ঘকাল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার রাজনীতির জীবন শুরুটাই রাজপথে। তিনি স্বৈরাচার এরশাদ সরকারে বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশে পথে-প্রান্তরে জনগণকে সংগঠিত করেছেন।

খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৮ মাস আমাদের নেত্রী কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে যাওয়ার আগে তিনি বিদেশে ছিলেন। তিনি নাও আসতে পারতেন। কারণ উনি জানতেন, তিনি ফিরে আসলেই এই মামলা চলবে এবং সরকার তাকে কারারুদ্ধ করবে। কিন্তু তিনি দেশে ফিরে এসেছেন, আদালতের সম্মুখে দাঁড়িয়েছেন।


তিনি বলেন, বেগম জিয়া পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, আমি গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে একে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আর বিচার বিভাগকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা একেবারেই নেই। আর এই অস্ত্র দিয়েই সরকার বেগম জিয়াকে কারাগারে আটক করে রেখেছে।
খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের নেতা মাওলনা রফিকুল ইসলাম।

গত বছর কারাবন্দি হওয়ার পর বিএনপিও খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করেনি। এবার তার ৭৫তম জন্মদিনে দলের পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন ছিল না।

তবে জাতীয় শোক দিবসের পরের দিন শুক্রবার (১৬ আগস্ট) খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া একটি একটি করে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ২০০৫-০৬ এর দিকে খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় তখন বাংলাদেশকে বলা হয়েছিল উদীয়মান ব্যাঘ্র । বলা হয়েছিল যে, আগামী ১০ বছরে যে ১১টি দেশ মধ্যমআয়ের দেশে পরিণত হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।’

উন্নয়নে ভিত্তি খালেদা জিয়া তৈরি করে দিয়ে গেছেন দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের নেতারা অনেক কথা বলেন। কিন্তু প্রতিটি উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন প্রথমে করেছেন জিয়াউর রহমান, তারপর সেটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’

‘আজকে সেই নেত্রীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। কারণ, তিনি যদি বাইরে থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশকে যে পরনির্ভরশীল করে ফেলা হচ্ছে, অর্থনীতিকে যে ফোঁকলা করে ফেলা হচ্ছে, এটা সম্ভব হতো না’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মিলাদ মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, শওকত মাহমুদ, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ইমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. ওবায়দুল ইসলাম, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মীর সরফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, নিপুণ রায়, ইশরাক হোসেন, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দি, ডাক্তার জাহিদুল কবিরসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ