ফটো গ্যালারি

কাঙালী ভোজ নয়!

সোনাদিয়া মসজিদে ডাব দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের জন্য বিশেষ মোনাজাত

সোনাদিয়া মসজিদে ডাব দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের জন্য বিশেষ মোনাজাত \

জে,জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সীমাবদ্ধ থাকতে পারে কিন্তু শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার টানে আটকে রাখতে পারেনি বিছিন্ন দ্বীপ সোনাদিয়া এলাকার লোকজন’কে। যথাযথ মর্যাদায় তাঁরা জাতির জনকের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানালেন।

কাঙালী ভোজ নয়! হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার শহীদ পরিবারের জন্য ডাব নিয়ে ফাতেহা শরীফ পড়ে মোনাজাতে দোয়া কামনা করে সোনাদিয়া মসজিদে।বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকালে বিশেষ মোনাজাতে বঙ্গবন্ধু ও তার শহীদ পরিবারসহ দেশের জন্য জীবনদানকারি বীরদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে পারেন, সুন্দভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন, এ জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির সুখ সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকান্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর একটি শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বিশ্বের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ, বাঙালির নিরন্তন প্রেরণার চিরন্তন উৎস, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকান্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভ্রাতা শেখ আবু নাসের, জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির জনকের ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হন।

সেই শোক আজও বাঙালী জাতিকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই আগস্ট মাস আসতেই শোকের অবয়ব সৃষ্টি হয় সারা দেশ জুড়ে। মাস জুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে স্মরণ করা হয় মহান এই মানুষটিকে। যার ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলা কুতুবজোম ইউনিয়নের বিছিন্ন দ্বীপ সোনাদিয়া ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি মৃত এখলাছ মেম্বারের বড়পুত্র একরাম মিয়ার উদ্যোগে শোকের মাসে নেতাকর্মীদের নিয়ে মসজিদে জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ওর্য়াড আওয়ামী লীগের নেতা সাহাব উদ্দীন, মো. আনচারুল করিম, সোহেল, জসিম উদ্দীন, মাওলানা মো. করিম, বাবু মিয়া, পেঠান আলী, ইমন. শাকিব সহ প্রমূখ। প্রসঙ্গত, প্রচার রয়েছে দেশের ক্রান্তিকালে ১৯৬৬ সালের ১১ মার্চ মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদিন রাত্রি যাপন করেছিলেন এই বিছিন্ন সোনাদিয়া দ্বীপে। সে সময় মৃত এখলাছ মিয়ার পিতা মরহুম আসত আলী বড় খাঁসি জবাই করে বঙ্গবন্ধুকে মেহমানদারী করেছিলেন।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ