ফটো গ্যালারি

অমিত শাহকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে

‘স্বাধীনতা দিবসেও পশুর মতো বন্দি কাশ্মীরিরা’

‘স্বাধীনতা দিবসেও পশুর মতো বন্দি কাশ্মীরিরা’ \

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সবাই যখন ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে, তখন পশুর মতো বন্দি কাশ্মীরিরা, মৌলিক মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত। আর এসব নিয়ে মুখ খুললেই কঠিন পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে এক চিঠিতে এসব কথা বলেছেন সদ্য বিলুপ্ত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা জাভেদ। চিঠিটি একটি অডিওবার্তা আকারেও প্রকাশ করেছেন তিনি।

চিঠিতে ইলতিজা জানিয়েছেন, বাড়িতে কেউ এলে তাদের গেট থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এ খবরটুকুও তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। তাকে বাড়ির বাইরে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে।

চিঠিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গৃহবন্দি হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ে। তবে, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারের কারণেই তাকে আটকে রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইলতিজা। তিনি বলেন, আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যদি ফের মুখ খুলি, তবে আরও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশে এক নাগরিকের কি অকল্পনীয় নিপীড়নের কথা বলারও অধিকার নেই? এটা একধরনের করুণ বিদ্রপ যে, অস্বস্তিকর সত্য বলার কারণে আমার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীর মতো আচরণ করা হচ্ছে।’মেহবুবা মুফতির মেয়ে বলেন, আমার সঙ্গে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে রয়েছি। যারা মুখ খুলেছে, সেসব কাশ্মীরির মতো আমারও প্রাণহানির শঙ্কা হচ্ছে।

গৃহবন্দি হওয়ার পর থেকে ইলতিজার দ্বিতীয় এ অডিওবার্তা এমন সময়ে প্রকাশিত হলো যখন, ১২তম দিনে পা দিয়েছে অবরুদ্ধ কাশ্মীর। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রতিবাদে বড় বিক্ষোভের আশঙ্কায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ। চলাচল ও জনসমাগমে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। মূলধারার অনেক রাজনৈতিক নেতাই বন্দি। এদের মধ্যে আছেন সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি।

জম্মু-কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করার ঘোষণার আগের রাতেই গত ৪ আগস্ট প্রথমে গৃহবন্দি করা হয় মেহবুবা মুফতি ও ওমর আব্দুল্লাহকে। পরেরদিন আটক করে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের।

এছাড়া, আরেক নেতা শাহ ফয়সালকে গত বুধবার (১৪ আগস্ট) দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করে শ্রীনগরে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে গৃহবন্দি আছেন তিনি। এসব নেতা কবে নাগাদ মুক্তি পাবেন, তা জানাতে পারেনি কেউই।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ