ফটো গ্যালারি

কাউনিয়ায় দাম না পেয়ে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

কাউনিয়ায় দাম না পেয়ে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক \

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ গত কয়েক বছরে পাট চাষ করে ভরা মৌসুমে ন্যায্য মুল্য পায়নি কৃষক। তাই পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কৃষকরা।

জানাগেছে কয়েক বছর আগেও উপজেলায় ২ হাজার ৫শ’৩৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কমতে কমতে চলতি মৌসুমে পাট চাষ হয়েছে মাত্র ৭৯৫ হেক্টর জমিতে। মূলত চাষের খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট, পানির অপ্রতুলতা এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় পাট চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন পাট চাষিরা। অপরদিকে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে নেই তেমন কোন সরকারী বে-সরকারী পদক্ষেপ। কৃষকরা জানায়, সোনালী আঁশ পাটের চাষ বাড়াতে পাট অধিদপ্তরের লোকজন কাজ করছে। কিন্তু উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে পাট অধিদপ্তরের লোকজনের দেখা মেলে না।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, হারাগাছ পৌর সভাসহ ছয়টি ইউনিয়নে ৭৯৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। নিজপাড়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, তার ব্লকে এবার ৪৯৪ বিঘা জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩২৯ বিঘা জমিতে পাট চাষ হয়েছে। শুধু তার ব্লকেই নয়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯টি ব্লকেই ব্যপাক হারে কমেছে পাট চাষ। ফলে হুমকিতে পড়েছে সম্ভাবনায় সোনালি আঁশ পাট চাষ। পাট চাষিরা জানাচ্ছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনা থাকলেও এ উপজেলায় পাট কেনার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এখনও বহু চাষি ফরিয়া পাইকারের কাছে পাট বিক্রি করেন। তা ছাড়া, গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠির নির্ভরতাও কমে যাচ্ছে। তাই বংশানুক্রমে পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সম্প্রতি পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়েছেন চাষিরা।

গদাই গ্রামের শাহজাহান মন্ডলসহ এলাকার অনেক পাট চাষি বলেন, পাট বিক্রি করে খরচ অনুপাতে দাম পাওয়া যায় না। তার চেয়ে জমিতে বাদাম কিংবা ভুট্টা চাষ করে ভাল লাভ পাওয়া যাচ্ছে। তাই কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কৃষকদের অভিযোগ, আলুর বস্তা, ধানের বস্তা সব পলিথিনের হয়ে যাচ্ছে। হাট-বাজারে পাটের ব্যাগের পরিবর্তে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। পাট চাষে শ্রমিকের মজুরি, জমি চাষ, বীজ কেনা, সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, পাট কাটা ও জাগ দেওয়া, আঁশ ছড়ানো, শুকিয়ে বাজারজাত করাসহ সবকিছুতে আগের তুলনায় খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে অনুপাতে পাটের দাম নেই। বেশ কয়েক বছর থেকে পাট বিক্রি করে লোকশান গুনতে হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা। নাজিরদহ গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান বলেন, এক সময় রংপুর অঞ্চলে ব্যাপক পাটের চাষ হতো। বর্তমানে সোনালী আঁশ পাটের আবাদ কমে গেছে। এরপর পলিথিন ব্যাগের ব্যবহারে পাট খাতে ধস নামতে শুরু করে আর আশঙ্কাজনক হারে কমতে থাকে পাটের দাম। ফলে কৃষকরা পাট চাষের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে সোনালী আঁশ পাট চাষ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন তা না হলে আগামীতে পাটের চাষ হ্রাস পাবে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল আলম জানান, কৃষকরা পাটের পরিবর্তে বাদাম, ভুট্টা ও আউশ ধান আবাদে লাভবান হচ্ছেন। ফলে সম্ভাবনাময় পাটের চাষ কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঝে মাঝে এসে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেয়। সেই সঙ্গে কৃষি বিভাগ থেকে পাট চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আগামীতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ