ফটো গ্যালারি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চালু হলো 'স্টপ ডেঙ্গু'

এডিস মশা কী শেখানোর পরামর্শ মন্ত্রীর

এডিস মশা কী শেখানোর পরামর্শ মন্ত্রীর \

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেঙ্গু মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, জনগণকে বোঝাতে হবে এটা কিছুই না, তবে যদি এটাকে এড়িয়ে যাই তাহলে অনেক বড় ঘটনা।

তিনি বলেন, কারিক্যুলামগুলোতে গরুর রচনা পড়িয়ে আমাদের কতটুক লাভ হবে? তারচাইতে ট্রাফিক সিগনাল পড়ানো, এডিস মশা কী জিনিস, এডিস মশার কোথায় জন্ম হয়—এসব শেখানো দরকার।

মন্ত্রী বলেন, ছোট বেলা থেকে যদি শিখে ওঠে আর যদি লাইফে অ্যাপলিকেশন থাকে, সিলেবাসে এসব যুক্ত করতে অসুবিধা কোথায়? কোন রচনা পড়াব আর কোন গল্প পড়াব—এ সিদ্ধান্তগুলো আমাদের সঠিকভাবে নিতে হবে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় স্কাউট ভবনে ‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ সমঝোতা স্বাক্ষর ও অ্যাপ উন্মোচন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তাজুল ইসলাম।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ডেঙ্গুকে মহামারি বলা যায় না, কিন্তু কার্যকারিতা ওই পর্যায়ে চলে গেছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন ২, ৩, ৪, ৫ জন করে মারা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রথমে ডেঙ্গু শনাক্তের কিটের অভাব ছিল। এখন সেটা নেই, আমরা সবাই মিলে কাজ করলে সফল হব। তবে সিটি কর্পোরেশন বা অন্যান্য সংস্থা ঠিকমতো ময়লা পরিষ্কার করছে না। ডেঙ্গু এখন সারা দেশে ছড়িয়ে গেছে। সারাদেশ থেকে আবার ঢাকায় আসবে, তাই বসে থাকলে চলবে না। আমাদের সারা বছর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুজ্বরের ছোবল থেকে মুক্তির লক্ষ্যে উন্মোচন করা হয়েছে ‘স্টপ ডেঙ্গু’ মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থানে মশার প্রজনন স্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মশা নিধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।

একই অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথমবারের মত চুক্তি সই করে একজোট হয়েছে সরকারের পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং আরো চারটি সংস্থা। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামে একটি বিশেষায়িত অ্যাপ প্রকাশ করা হয়। ই-ক্যাব বাংলাদেশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অ্যাপটি তৈরিতে কারিগরি সহায়তায় দেয় ই-পোস্ট ও বিডি-ইয়ুথ।

অ্যাপটির ব্যবহার ও কার্যকারিতার ওপর আলোকপাত করে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে যেকেউ সারা দেশের যেকোনো স্থানে মশার প্রজনন স্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারবেন। এর মাধ্যমে পুরো দেশের মশার প্রজনন স্থানের ম্যাপিং তৈরি করা হবে। ফলে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার খুব সহজেই কোন এলাকায় কতজন লোক নিয়োগ করতে হবে তা মশার জন্মস্থানের ঘনত্ব দিয়ে নির্ধারণ করতে পারবে। মশা নিয়ন্ত্রণে কী পরিমাণ ওষুধ কিনতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়টিও জানা যাবে। একইসঙ্গে পরবর্তী বছরের জন্য আগে থেকে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নেওয়া যাবে।

পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে কীভাবে কোথায় চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাবে তা জানা যাবে বলে জানান ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটস, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকোশল অধিদপ্তর, আইসিটি বিভাগের অধীন এটুআই প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা চুক্তি সই করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংক্রমিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কমিশনার ও বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ