ফটো গ্যালারি

দেশে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট, অথচ ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে যায়: ফরাস উদ্দিন

দেশে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট, অথচ ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে যায়: ফরাস উদ্দিন \

এ ওয়ান নিউজ: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ফরাস উদ্দিন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ব্যবস্থাপনা একটি গুরুতর সমস্যা। আমরা যদি সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারতাম, তাহলে আমাদের দেশের বাইরে থেকে লোক এনে চাকরি দেওয়ার প্রয়োজন পড়তো না। আমাদের দেশে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট থাকলেও দেশের বাইরে পাঁচ বিলিয়ন ডলার চলে যায়। আমরা এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারিনি। কারণ, আমাদের দেশের করপোরেট সেক্টর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একে অপরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখে না।’

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) আয়োজিত উচ্চশিক্ষার মান অর্জন সম্পর্কিত দুই দিনব্যাপী প্রথম সিইটিএল সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউল্যাবের প্রধান ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ড. ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বইয়ের গণ্ডির মধ্যে না রেখে কর্মমুখী হতে হবে।’দেশের তরুণ জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের সংখ্যা পাঁচ কোটি। বিশ্বের মাত্র ২৫টি দেশে এই সংখ্যক জনসংখ্যা রয়েছে। তাই আমাদের সুযোগ আছে তাদের কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জনসম্পদে রূপান্তরিত করার। উচ্চশিক্ষা সর্বজনীন হওয়া উচিত না, এটি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্যই হওয়া উচিত।’

আমাদের দেশে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে চাকরির প্রাপ্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় উল্লেখ করে ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীকে ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য শিক্ষা গ্রহণ করতে বলা হয়। এতে তারা মুখস্থবিদ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন অনেক বিষয় আছে, যা চাকরির বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের অষ্টম কিংবা দশম শ্রেণি পর্যন্ত সর্বস্তরের শিক্ষায় কারিগরি শিক্ষার ওপর এককভাবে জোর দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে কওমি মাদ্রাসার কারিকুলামে সরকার চাইলে গণিত, ইংরেজি ও কম্পিউটার শিক্ষা এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এরমধ্যে যে কোনও দুটি বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক। এর আগে প্ল্যানারি সেশনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিচার্স (আইইডি)-এর অধ্যাপক ড. আরিফুল হক কবির, ইউল্যাবের উপ-উপাচার্য ও ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজির প্রধান অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তুজা, ইউল্যাবের স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সের ডিন ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) ডিরেক্টর অধ্যাপক জুড উইলিয়াম হেনিলো ও নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক্সের চেয়ারম্যান ড. আহমেদ তাজনিম।

আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি ৫০ জন শিক্ষক ও গবেষক অংশ নিয়েছেন। তারা তাদের গবেষণা নিবন্ধ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন। এই সম্মেলনে তিনটি একাডেমিক সেশন, দুটি প্ল্যানারি সেশন এবং একটি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক ইমরান আহমেদ, ট্রেজারার অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আখতার আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ