ফটো গ্যালারি

নির্যাতন হলে প্রতিবাদ করা ইতিহাসের একটি শিক্ষা: ঢাবি উপাচার্য

ঢাবি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলবদ্ধ করতে চাওয়া ভুল: ভিপি নুর

ঢাবি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলবদ্ধ করতে চাওয়া ভুল: ভিপি নুর \

এওয়ান নিউজ: ঢাবি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলবদ্ধ করতে চাওয়া ভুল বলে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘যেকোনো প্রয়োজনে এ দেশের মুক্তিকামী, গণতন্ত্রকামী মানুষের অধিকার আদায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বারবার ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাদের কেউ শৃঙ্খলবদ্ধ করে রাখতে চাইলে বড় ভুল করবেন।’

আজ শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো দিবস স্মরণে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। নুর আরও বলেন, ‘২০০৭ সালের ২২ আগস্ট একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সেনা সদস্য আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত করে। ২৩ আগস্টের এ আঘাত শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছিল না। এ আঘাত ছিল এ দেশের গণতন্ত্র ও মুক্তিকামী মানুষের ওপর। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত থেকে শুরু করে নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সর্বশেষ ২০০৭ সালের ২৩ আগস্টের এ আন্দোলন, গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে ঢাবির ছাত্র শিক্ষকরাই নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

মুক্তিকামী মানুষের অধিকার আদায়ে যেকোনো আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝাঁপিয়ে পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা (শিক্ষকরা) যারা মনে করেন তাদের শৃঙ্খলবদ্ধ করে রাখবেন, তাহলে সেটি আপনাদের জন্যই বড় ধরনের ভুল হবে এবং এ দেশের জন্য করুণ পরিণতি বয়ে আনবে। কারণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় অনুকরণ করে। সুতরাং আমাদেরকে জাতির জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ হতে হবে।’

শিক্ষকদের একাংশের সমালোচনা করে নুর বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, যখন একদিকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরা মানুষর অধিকার আদায়ে নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করে দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক একই সময়ে কিছু শিক্ষক, কুচক্রী মহলকে সহায়তা করে।’

এদিকে, নির্যাতন হলে প্রতিবাদ করা ইতিহাসের একটি শিক্ষা বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলা চলছিল। সেখানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প ছিল, সেই ক্যাম্পের দু’একজন সদস্যের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখানে নির্যাতিত হন। এবং সেই নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা তারা তখন প্রতিবাদ করে। এটি হলো আমাদের ইতিহাসের একটি শিক্ষা। তবে সেনাবহিনীকে জাতীয় প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে ভুলক্রমে এটিকে সেনাবাহিনীর আক্রমণ বলা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দিবসটির তাৎপর্য উল্লেখ করে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, সেদিন যারা কর্তৃপক্ষের অবস্থানে ছিল, সেটি হোক সরকারি প্রশাসন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই প্রশাসনের অনেক শিক্ষা গ্রহণের কথা ছিল সেটি হলো এরকম- নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা যখন দাবি তুললো, সেই দাবিগুলো ছিল ন্যায়সঙ্গত। যারা নির্যাতিত হয়, তখন তারা সেই নির্যাতনের প্রতিকার চায়। তখন তারা চেয়েছিল সেটির সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করা হোক।

‘যারা আক্রমণকারী সদস্য তারা যেন ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের ন্যায়সঙ্গত বক্তব্য ছিল। আমরা সেদিন যদি যারা যেখানে প্রশাসনে ছিল, সেটা যদি ওইদিন সঠিকভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হতাম এবং দাবিগুলো যদি পূরণ করার ব্যবস্থা করা হতো তাহলে পরবর্তী ঘটনাগুলো ঘটতো না।’

এতে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

অপরদিকে একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে শিক্ষকদের একটি অংশের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশের সভাপতিত্বে ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ