ফটো গ্যালারি

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ‘আতঙ্ক’ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে দশম শ্রেণির ছাত্র নিহত, আহত তিন

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ‘আতঙ্ক’ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে দশম শ্রেণির ছাত্র নিহত, আহত তিন \

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং’আতঙ্ক’ রকি গ্রুপের ছুরিকাঘাতে চাইল্ড হ্যাভেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দশম শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র মহসিন (১৮) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩জন।

নিহত মহসিন মোহাম্মদপুরের চাঁনমিয়া হাউজিংয়ের ১ নং গলিতে থাকতেন।তার গ্রামের বাড়ী মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাহের তলা গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে।২ বোন ও ২ দুই ভাইয়ের মধ্যে মহসিন সবার ছোট।

নিহত মহসিনের বন্ধু হৃদয় জানায়, সপ্তাহ খানেক আতঙ্ক গ্রুপের আসিফের সাথে হোন্ডা চালানোর সময় একটু ধাক্কা লাগে পরে এটি মহসিন ও আসিফের সিনিয়র ভাইয়েরা মিটমাট করে দেয়। বুধবার বিকালে মহসিন ও তার প্রেমিকা সুমাইয়া মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে কথা কাটাকাটি হয় আতঙ্ক গ্রুপের কয়েকজনের সঙ্গে।পরে সন্ধা ৭টার দিকে চাঁনমিয়া হাউজিংয়ের পাইওনিয়ার কলেজ গলির ঢালে আমি মহসিন, রাকিব, সাব্বির, রুবেল ও মিজান বসে ছিলাম। হঠাৎ ৩ দিক আতঙ্ক গ্রুপের আসিফ মিজান,বাবু ও বোটঘাটের পাটওয়ারী গ্রুপের রুবেলসহ ৩০-৪০ জন আসে।

অপরিচিত ১০-১৫ জন মহসিনকে কলার ধরে টেনে নিয়ে এসেই এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে পরে ছুরি পেটের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়।এসময় মহসিনকে কোলেকরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এসময় সাব্বির,রাকিব ও রুবেল গুরুতর আহতে হয়েছে।সাব্বিরের হাতের রগ কেটে গেছে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরেক বন্ধু মিজান বলেন,আমরা বসে আগামীকাল শহীদ পার্ক মাঠে ক্রিকেট খেলা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন এসে মহসিনে কলার ধরে নিয়ে আসে।আমি জানতে চাইলে এলোপাথাড়ি কোপানো শুরু করে।এতে মহসিনসহ ৩জন আহত হয়। সন্ধার আগে আতঙ্ক গ্রুপের কয়েক জনের সঙ্গে মহসিনের প্রেমিকা সুমাইয়াকে নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর পরই এঘটনা ঘটে।

মহসিনের প্রেমিকা সুমাইয়া বলেন,আমি আর মহসিন ঢাকা উদ্যান নদীর পাড়ে ঘুরতে যাই। সেখানে কয়েকজন ছেলেরা আমাদের গতি পথ আটকায়।পরে কথা কাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে আমরা চলে আসি। এরপর আমি বাসায় চলে যাই।বাসায় যাওয়ার পর খবর পাই মহসিন মারা গেছে তখন হাসপাতালে ছুটে আসি। মহসিনের বড় ভাই ইউসুফ জানায়,আমরা ৪ভাই-বোন মহসিন সবার ছোট। বাবা মারা গেছে অনেক আগে। ও আগামী বছর এস,এস,সি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। এমন একটা সময় আমার ভাইকে মেরে ফেলল ওরা। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কর্বব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সোনিয়া আক্তার বলেন,আমাদের কাছে মহসিন নামে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে আসে।পরে তাকে চেক করে দেখা যায় সে মৃত।আমাদের এখানে আনার আগেই তার মৃত হয়।তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। কি কারণে মারা গেছে ময়না তদন্ত হলে জানা যাবে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)গনেশ গোপাল বিশ্বাস বলেন,আমরা জানতে পেরেছি ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা সবাই একসঙ্গে চলত।পরে মহসিন অন্য গ্রুপে ভাগ হয়ে যায়।বুধবার বিকালে মহসিন তার প্রেমিকাকে নিয়ে ঢাকা উদ্যানে ঘুরতে যায়।সেখানে কয়েকজনের মহসিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি।মহসিন বলে আমি ভালো হয়ে গেছি পড়ালেখা করি।এরপর সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে মহসিনকে হত্যা করা হয়।এ ঘটনায় আসামীদের ধরার জন্য অভিযান চলছে।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ