ফটো গ্যালারি

ভেঙে যাচ্ছে সৌরভ-মধুমিতার সংসার!

ভেঙে যাচ্ছে সৌরভ-মধুমিতার সংসার! \

বিনোদন ডেস্ক: কিছুদিন আগেই জি টিভির দিদি নাম্বার ওয়ানে এসেছিলেন মধুমিতা সরকার। তিনি এবং তাঁর স্বামী অভিনেতা সৌরভ কেন ধুমধাম করে বিয়েটা করেননি, রচনার এই প্রশ্নের উত্তরে বেশ মজার একটা উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, আজকাল যে রেটে বিয়ে ভাঙছে, তাতে ধুমধাম করে বিয়ে করলে পরে যদি সেটা না টেঁকে তাতে পুরো খরচটাই জলে! তাই তাঁরা ঠিক করেছেন, আগে বিয়েটা ঠিক করে বছরকয়েক ঝড়ঝাপটা সামলে বেশ মজবুত হোক, তারপর না হয়…কে জানত, মাসকয়েক পরে এই লাইনটা ধরেই খবরটা করতে হবে?

সৌরভ (Sourav) চক্রবর্তী এবং মধুমিতা (Madhumita) সরকার। বাংলা টেলিভিশন দুনিয়ায় জনপ্রিয় এই দম্পতি। ওয়েট…জনপ্রিয় দম্পতি ‘ছিলেন।’ ইয়েস, ছিলেন! গোটাটাই এখন পাস্ট টেন্স।ঠিকই পড়েছেন আপনি। সৌরভ-মধুমিতার জুটি ভাঙছে। ভাঙছে দাম্পত্য। বিবাহবিচ্ছেদের (divorce) পথে এগোচ্ছেন এই দম্পতি। POPxo বাংলার কাছে খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিলেন দু’জনেই।

না! একেবারেই সুখের খবর নয়। সৌরভ-মধুমিতা নিজেরাও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা আলোচনা করতে চান না। বিশেষত দুই অভিনেতার বন্ধু এবং অনুরাগীরা এই খবরে সত্য়িই হতবাক। একসঙ্গে সংসার করা তো ছিলই। অভিনয়কে কিছুটা ব্যাক গিয়ারে রেখে পরিচালনাও শুরু করেছেন সৌরভ। ওয়েব সিরিজে তাঁর কাজ প্রশংসিত। একসঙ্গে প্রোডাকশন হাউজ ‘ট্রিকস্টার’-এরও জন্ম দিয়েছিলেন এই জুটি। প্রোডাকশনের কাজের পাশাপাশি অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন মধুমিতা। হঠাৎ কী এমন হল যে, সম্পর্কটা শেষ করে দিতে চলেছেন তাঁরা?

সৌরভ বললেন, “খবরটা একদম সত্যি। লাস্ট কিছুদিন আমি আর মধুমিতা একসঙ্গে থাকছি না। আইনি বিচ্ছেদের পথে এগোব। তাই এটা নিয়ে বেশি কথা বলতে পারব না। তা ছাড়া বিষয়টা ব্যক্তিগতও। আমরা আর একসঙ্গে থাকছি না, এটা যেমন সত্যি, তেমনই আমি চাই মধুমিতা যেমন ভাবে চাইছে তেমন ভাবে ভাল থাকুক।”

এই মুহূর্তে জি-ফাইভের একটি ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ে ব্যস্ত মধুমিতা। অয়ন চক্রবর্তীর পরিচালনায় সেই ওয়েবের শুটিংয়ে আপাতত কলকাতার বাইরে রয়েছেন তিনি। অভিনেত্রী ফোনে খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে বললেন, “আমি সত্যিই চাই সৌরভ ভাল থাকুক। ব্যস…”

‘সবিনয়-নিবেদন’ ধারাবাহিকের সেটে প্রথম আলাপ হয় সৌরভ-মধুমিতার। সেখান থেকেই প্রেমের শুরু। চার বছর প্রেমের পর বিয়ে করেন তাঁরা। চার বছর দাম্পত্যজীবনও কাটালেন। আট বছর একে অপরকে চেনার পর দু’জনেরই মনে হচ্ছে, সম্পর্কের এখানেই ইতি হলে ভাল থাকবেন দু’জনেই।

ছ’মাস আগে বাবাকে হারিয়েছেন সৌরভ। সে সময়টা মধুমিতা তাঁর পাশেই ছিলেন। অন্তত সোশ্যাল মিডিয়ার আপডেট দেখে তেমনই মনে হয়েছিল অনুরাগীদের। পরে সৌরভ মাকে নিয়ে যখন বেরিয়েছেন, সেখানেও সঙ্গ দিয়েছিলেন স্ত্রী। তা হলে? কোথায় ভাঙন ধরল? ফাটলটা ঠিক কোথায়?

আসলে আট বছর আগে যখন সম্পর্কের সূত্রপাত, তখনও প্রথমদিকে ইন্ডাস্ট্রির খুব বেশি মানুষ বিষয়টা জানতেন না। আবার যখন ভাঙনের মুখে, তখনও ঘনিষ্ঠরা বাদে বাকিরা অনেকেই জানেন না। ফলে সৌরভ-মধুমিতা মুখ না খুললে বিবাহবিচ্ছেদের কারণ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা কারও নেই। গুজব বলছে, ইগো ক্ল্যাশই নাকি এই ভাঙনের মূলে। সৌরভের চেয়ে কেরিয়ারে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে গিয়েছেন মধুমিতা, আর সেটাই নাকি…

তবে টলি পাড়ার একটা বড় অংশের মতে, এটা ওঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সেটাকেই সম্মান করা উচিত সকলের। আসল কারণ খুঁজতে গিয়ে তিক্ততা বাড়ুক, সেটা কেউই চান না। বরং নিজেদের জীবনের ভাল থাকুন দু’জনে, সেটাই সকলের ইচ্ছে। তবুও সম্পর্ক ভাঙছে, ভাঙছে বন্ধুত্ব। এই জুটির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াতে খারাপ লাগছে অনুরাগীদের।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ