ফটো গ্যালারি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীকে মারধর, আলোচনা স্থগিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীকে মারধর, আলোচনা স্থগিত \

জাহাঙ্গীরনগর প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।

শনিবার এ ঘটনায় আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে। তবে ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে রোববার সকাল ১১টা থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কর্মবিরতি, পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট এক ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে আন্দোলনকারী প্রথম বর্ষের এক ছাত্র মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার ১১ দিন পার হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। গতকাল সকাল ১০টায় তিন দফার দাবিতে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসার কথা ছিল। মারধরের ওই দুই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় বসবেন না বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম সাইমুম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর সংগঠক ও জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডল বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪১তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক শিক্ষার্থী জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক জব্বার হল সংলগ্ন একটি খাবারের দোকানে সাইমুমের সঙ্গে অভিষেকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সাইমুম বলেন, ‘আমি প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি এর যথাযথ বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিষেক মণ্ডল বলেন, ‘আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে সে এ সময় উদ্যত আচরণ করে। তখন আমাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘এটা ব্যক্তি পর্যায়ের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সংযোগ নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘অভিযুক্ত যেহেতু সাবেক শিক্ষার্থী। তাই প্রশাসন এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।’

এদিকে এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বৈঠকে বসেন। আলোচনা শেষে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আজকের ঘটনার বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আর আল বেরুনী হলের ঘটনা আমি জানতাম না। এ বিষয়ে সন্ধ্যায় শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এদিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাইমুমের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার। বিজ্ঞপ্তিতে তারা হামলাকারীদের বিচার ও অবৈধ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ