ফটো গ্যালারি

পুলিশে লোক নিয়োগে সততা অনুসরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পুলিশে লোক নিয়োগে সততা অনুসরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর \

এওয়ান নিউজ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জনগণ পুলিশের কাছ থেকে যেন স্বল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশ গড়ে তোলা হচ্ছে। পুলিশের সেবা তাৎক্ষণিক পেতে জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ চালু করা হয়েছে। পুলিশ খুব দক্ষতার সঙ্গে এক্ষেত্রে কাজ করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির বদনাম ছিল। কিন্তু পুলিশ বর্তমানে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে । ঘুষ-দুর্নীতি মুক্তভাবে নিয়োগ হওয়ায় এবার সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরাও চাকরি পেয়েছে। পুলিশের এই দৃষ্টান্ত অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করতে হবে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পুলিশ ট্রাস্টের ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘পুলিশ দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। পাশাপাশি আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে এবং তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঈদের আনন্দে যখন সকলে আনন্দিত হয়, তখন আমাদের পুলিশবাহিনী কিন্তু তাদের নিজের পরিবার পরিজন ছেড়ে দায়িত্ব পালন করে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য সংগ্রহ করে। জাতির জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ সব সময় আমরা স্বীকৃতি দেই।

পুলিশসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তার সরকারের মেয়াদে পুলিশ বাহিনীর কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি আমাদের পুলিশবাহিনী আরও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠুক। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে আমি স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দেই। চিকিৎসার জন্য রাজারবাগে হাসপাতাল নির্মাণ করে দিয়েছি। শতভাগ রেশনের ব্যবস্থাও আমরা করেছি। ’

বিজ্ঞাপন
‘পৃথিবী যতটা এগিয়ে যাচ্ছে, অপরাধ প্রবণতার ধরণও ততটা পাল্টাচ্ছে। সাইবার ক্রাইম থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্রাইম এখন হচ্ছে। এর সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য পুলিশের দক্ষতা অর্জনে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। – বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশ না, বিশ্বব্যাপী এটা একটা বড় সমস্যা। কিন্তু আমি এইটুকু বলব, আমাদের দেশে পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটল। হলি আর্টিজন বা শোলাকিয়ার ঘটনায় সবার আগেই কিন্তু পুলিশই ছুটে গেছে এবং জীবনও দিয়েছে। এছাড়া আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশের ওপরও আক্রমণ হয়েছে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের সততার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রত্যেকে অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে একটা বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমি এটা বলব, অন্যান্য ক্ষেত্রে এটা অনুসরণ করে পুলিশের মতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ