ফটো গ্যালারি

অবিলম্বে দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার জন্য মুক্তি দাবি (পুরো সংবাদ)

বিপর্যয়ের মুখে মাতৃভূমি, অধিকার ফিরে পেতে সামনে বৃহত্তর আন্দোলন: মির্জা আলমগীর

বিপর্যয়ের মুখে মাতৃভূমি, অধিকার ফিরে পেতে সামনে বৃহত্তর আন্দোলন: মির্জা আলমগীর \

নিজস্ব প্রতিবেদক: হারানো অধিকার ফিরে পেতে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সামনে ‘বৃহত্তর আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বুধবার সকালে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, দেশে এক ভয়াবহ সংকটে রয়েছে ,একদলীয় শাসন ভর করেছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। দেশে বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবমিলিয়ে বিপর্যয়ের মুখে মাতৃভূমি। তাই দেশের “স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে ও আমাদের হারানো অধিকার ফিরে পাবার জন্য আসুন এই সংকট থেকে উত্তরণে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে আজকে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, তবেই সামনের দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন তৈরি করে এই দানব সরকারকে পরাজিত করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, তার ডায়াবেটিস অত্যন্ত বেড়ে গেছে, আর্থারাইটিস বেড়ে গেছে, ঘাড়ের ব্যথা বেড়ে গেছে। তিনি কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না, চলতে পারেন না। হুইল চেয়ার চলতে হচ্ছে তাকে।

“এই সরকার এবং তার কর্মকর্তারা আছেন, পিজির (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ আছেন, তারা বলছেন যে, তিনি (খালেদা) নাকি সুস্থ রয়েছেন। তিনি একেবারেই সুস্থ নন। আজকে অসুস্থ অবস্থায় তিনি কারারুদ্ধ হয়ে দিনাতিপাত করছেন। আমরা অবিলম্বে অসুস্থ নেত্রীর সুচিকিৎসার জন্য মুক্তি দাবি করছি।”
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এসময় বিএনপি মহাসচিব নিজেই স্লোগান ধরেন- ‘জিয়ার সৈনিক এক হও’, ‘মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাতে মির্জা আলমগীরের নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মী মানববন্ধনে অংশ নেয়। বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টা এই কর্মসূচি হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে কয়েকবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবন্ধন করেছে বিএনপি। সর্বশেষটি হয়েছিলে গত ৬ মার্চ।

মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান হচ্ছে না ।

তিনি বলেন , আজকে তারা বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। কারণ তাদের সেই বৈধতা নাই, সেই সাহস নাই। তাদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারছেনা। দুই বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও তারা ফেরত পাঠাতে পারে নাই।

“আরেকদিকে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশি বন্ধুদেশের… আসামের মন্ত্রী-নেতারা হুমকি দিচ্ছেন, বাংলাদেশি যারা অনুপ্রবেশকারী, তাদেরকে তারা ঠেলে ফেরত পাঠাবে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, কোনো বাংলাদেশি কখনও ভারতে যায় নাই স্বাধীনতার পরে। আজকে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে আবার বিপদগ্রস্ত করার জন্য, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি একমাত্র রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা অর্জন করতে পারি। অন্যথায় সম্ভবপর হবে না, তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আদালতে বিচারকরা মুক্ত মনে কাজ করতে পারছে না এ কারণে আইনি প্রক্রিয়ার তাকে মুক্ত করা যাচ্ছে না।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বেগম জিয়া দুটি মিথ্যা মামলায় বন্দী। দেড় বছর হতে চললো, তিনি জেলখানায়। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আদালতে বিচারকরা মুক্ত মনে কাজ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো; কিন্তু আমাদেরকে এর সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হবে এবং সে জন্য কর্মসূচী দিতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের মনে হয় বেশি দিন মানববন্ধন চলবে না। আমাদেরকে এখন দানববন্ধন কর্মসূচি দিতে হবে। রাজনীতিবিদদের আদালত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীর মুক্তি- আন্দোলনের ওপর নির্ভর করা তার জন্য অপেক্ষা করা অসম্মানজনক।’

তিনি বলেন, ‘যে আদালত নিজে চলতে পারে না, যে আদালত নিজের চিন্তা-ভাবনা প্রয়োগ করেতে পারে না, যে আদালত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাহিরে এক কদম হাঁটতে পারে না- সেই আদালদের ওপর খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্ভরশীলতা আর খালেদা জিয়াকে আদালতে রাখা একই কথা।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকার একমাত্র বাধা তাহলে সরকারের পতনের আন্দোলনই আগে করবো। তারপর খালেদা জিয়া স্বাভাবিকভাবেই মুক্ত হয়ে আসবেন।’

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মজিবর রহমান সরোয়ার, হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ইমরান সালেহ প্রিন্স, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক এমপি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, বিএনপির সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির স্বাস্হ্য বিষয়ক সহ সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, বিএনপির স্হানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক শাম্মী আক্তার, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, বিএন‌পির জাতীয় নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ