ফটো গ্যালারি

পরিবারের কেউ আ.লীগ-বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে ছাত্র সমাজে জায়গা নয়: রাঙ্গাঁ

জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ৩০ নভেম্বরের পরিবর্তে ২১ ডিসেম্বর: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ৩০ নভেম্বরের পরিবর্তে ২১ ডিসেম্বর: জিএম কাদের \

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভ্যেনু না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল পিছিয়ে ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, “৩০ নভেম্বর আইইবির অনুষ্ঠানস্থল ফাঁকা না থাকায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ২১ ডিসেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (আইবি) মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্র সমাজের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভায় তিনি একথা জানান। নব্বইয়ের দশকে প্রধান সামরিক শাসক থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে জাতীয় পার্টির গঠনের পর পরই দলীয় ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজ গড়ে তুলেন এরশাদ। গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাতীয় পার্টির নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে ছাত্র সমাজ।

সভার প্রধান অতিথি জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “অনেকেই বলেন, এরশাদ সাহেব নিজেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই ছাত্র সমাজের প্রয়োজনীয়তা পরে তিনি উপলব্ধি করেন।

“তিনি যখন জেলে, তখন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, এ নিয়ে যখন সিদ্ধান্তে আসতে পারছিল না, তখন জাতীয় ছাত্র সমাজ বলেছিল, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমরা নির্বাচনে যাব।” ‘লেজুরবৃত্তি’ রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় ছাত্রসমাজ ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

আগামী অক্টোবরে মেয়াদ ফুরাবে জাতীয় ছাত্রসমাজের বর্তমান কমিটির। তার আগে আটটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেন কাদের। ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতি জোরদার করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, “তরুণদের সঙ্গে মিশতে হবে। তাদের মধ্যে তোমাদের রাজনীতির মতাদর্শ, মতবাদ প্রচার করতে হবে।”

পরিবারের কেউ আ.লীগ-বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে ছাত্র সমাজে জায়গা নয়: রাঙ্গাঁ
কারও পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে তাকে জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠনের সদস্য করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বে মহাজোটের শরিক দলটির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ।

শুধু আওয়ামী লীগই নয় কারো পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ বিএনপি করলে তিনিও জাতীয় ছাত্র সমাজে জায়গা পাবেন না বলে এক অনুষ্ঠানে বলে তিনি। তিনি বলেন, “কারও পরিবারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সদস্য থাকার প্রমাণ পেলে তাদের কোনোভাবেই ছাত্র সমাজের সদস্যপদ দেওয়া হবে না।”

জাতীয় পার্টি (জাপা)-কে সুসংগঠিত করতে না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়ে রাঙ্গা বলেন, ‘যেসব নেতার সন্তান অন্য পার্টি করেন, তাদের ভবিষ্যতে কোনও নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। যদি আমি মহাসচিব থাকি, তাহলে তারা মনোনয়ন পাবেন না।’

সামরিক শাসক থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর এইচএম এরশাদ সহায়ক বাহিনী হিসেবে ছাত্র সমাজ গড়ে তোলেন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাতীয় পার্টির নির্বাচনী রাজনীতিতে ভূমিকা রাখলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জায়গা পায়নি ছাত্র সমাজ।

এরশাদ পতনের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় সব ছাত্র সংগঠন জাতীয় সমাজকে ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে মোটামুটি ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নেওয়ার পর সেই চিত্র পাল্টাতে থাকে। গত দুই মেয়াদে জাতীয় পার্টি সরকারের শরিক ছিল। গত সংসদে তারা একইসঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকায় এবং সরকারেও ছিলেন, রাঙ্গাঁ ছিলেন সমবায় প্রতিমন্ত্রী। এবারই প্রথম সরকারে জায়গা হয়নি তাদের।

দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর পরিবারের কাউকে আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির থেকে আসা কাউকে ছাত্রলীগের সদস্য করা নিয়ে বিতর্ক আছে।

তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সদস্য করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বিচার করা হবে, পরিবারের নয়। এছাড়া পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য কেউ কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না এমন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এর আগে শোনা যায়নি।

ছাত্র সমাজের সভায় সংসদ নির্বাচন ও পরে ডাকসু নির্বাচনে দলের প্রশ্ন উঠলে রাঙ্গাঁ বলেন, “আমাদের জবাব দেওয়ার আছে, সময়মতো জবাব দেওয়া হবে। তবে এর জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। দল যদি সঠিক পথে থাকে, তাহলে বিজয়ী হব আমরা। চার বছর পর যে নির্বাচন আসছে, আমাদের তার প্রস্তুতি নিতে হবে।

“২০২৩ সালের নির্বাচনে আমাদের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েই ছাড়ব।”ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলের আগে কোনো প্রেসিডিয়াম সদস্য অকার্যকর থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

তিনি বলেন, “আজকে অনেকে অনেক কথা বলেন। নানা তামাশা দেখছি। ফেইসবুক খুললে দেখি, নানা জনের নানা পরামর্শ। তবে আমি এদের ঠিক করে যাব, ঠিক করতে এসেছি আমি।”

জাতীয় ছাত্র সমাজের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ