ফটো গ্যালারি

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিল: জমে উঠছে নেতৃত্বের লড়াই

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিল: জমে উঠছে নেতৃত্বের লড়াই \

এওয়ান নিউজ: মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরই শেষ হচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা যাচ্ছেন বিভিন্ন জেলায় ছাত্রদলের কাউন্সিলরদের ধারে ধারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু কাউন্সিলররাও জেনে বুঝে যোগ্য নেতা নির্বাচন করতে চান। ফলে ছাত্রদলের কাউন্সিলের সময় যত গড়াচ্ছে। ততই জমে উঠছে নির্বাচন।

নেয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দীন দুখু বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিলকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের একটা সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। এটা ভবিষ্যতে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে তরান্বিত করবে।

তিনি বলেন, আমরা অতীতের ত্যাগ ও নেতৃত্বে গুণাবলি দেখে নেতা নির্বাচন করবো। আমাদের সঙ্গে প্রার্থীদের দেখা হচ্ছে কথা হচ্ছে, এরমধ্য দিয়েই আমরা যাচাই-বাছাই করে নিচ্ছি; কে সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক নেতা নির্বাচিত করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্রদলে কাউন্সিলটা আমরা উপভোগ করছি। নেতারা আমদের সঙ্গে দেখা করছেন। আমরা দের অতীতের আন্দোলনের প্রোফাইল দেখেই নির্বাচিত করবো। কাউন্সিলদের ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলে সঠিক নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে।

প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায়। ১৪ সেপ্টেম্বর ১০ থেকে বেলা ১০ পর্যন্ত ভোট আনুষ্ঠিত হবে।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ দুটি পদে সারা দেশের ৫৩৩ জন কাউন্সিলরে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন আগামী দিনের নেতৃত্ব। শীর্ষ এই দুটি পদের মধ্যে সভাপতি পদে ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাদের বেশিরভাগই ছাত্ররাজনীতির তীর্থস্থান খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।

সভাপতি পদে ৯ জনের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন-কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মো. ফজলুর রহমান খোকন।

এছাড়া ১৯ সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আলোচনায় আছেন-শাহ নাওয়াজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিল হাসান।

এছাড়াও ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, এসএম সাজিদ হাসান বাবু, এবিএম মাহমুদ আলম সরদার মোট ৮ জন। এছাড়া, পরবর্তিতে আপিলের মাধ্যমে সভাপতি পদে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন মো. মামুন খান।

এদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জুয়েল হাওলাদার (সাইফ মাহমুদ জুয়েল), আমিনুর রহমান আমিন, শেখ আবু তাহের, জাকিরুল ইসলাম জাকির, মোহাম্মদ কারিমুল হাই (নাঈম), মাজেদুল ইসলাম রুমন, সাদিকুর রহমান, কেএম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইকবাল হোসেন শ্যামল, মুন্সি আনিসুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান শরিফ, শেখ মো. মশিউর রহমান রনি, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা, কাজী মাজহারুল ইসলাম।

যশোরের কৃতিসন্তান সভাপতি প্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ জানান, বর্তমান ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন।তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।

শ্রাবণ বলেন, ‘পারিবারের বাইরে গিয়ে আমি ভিন্ন রাজনীতিক মতার্দশের রাজনীতি করছি। আশাকরি কাউন্সিলরা আমরা ত্যাগ বিবেচনায় নিবেন।’

বাগেরহাটের কৃতিসন্তান সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, ছাত্ররাজনীতির কারণে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। ১/১১’র সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। বিগত সব আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন। সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের কাছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে, সুন্দর প্রতিযোগিতা, উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে যে সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে।

উত্তরাঞ্চলের বিএনপির নেতাদের আস্থাভাজন বগুড়ার ফজলুর রহমান খোকন- সিন্ডিকেট ও আঞ্চলিক দুই হিসেবেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি ও আশাবাদী।

সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির অন্যতম ঘাটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলার ছেলে শাহ নেওয়াজ। সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী শাহ নাওয়াজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট পেতে ভোটারদের কাছে ছুটছেন।

তিনি জানান, পারিবারিকভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া শাহ নাওয়াজ পুলিশ, ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্তৃক বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার নামে ঢাকার রমনা, শাহবাগ ও হাতিয়া থানায় তিনটি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।

শাহ্ নাওয়াজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়ও হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছি। চূড়ান্ত বিচারের ভার আমি কাউন্সিলরদের ওপর ছেড়ে দিলাম।

তিনি আরো বলেন, প্রচারণার সময় কাউন্সিলরদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। আমি আমার লক্ষ্যের কথা বলেছি। ১৯ দফা প্রতিশ্রুতির কথা বলেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত করা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গৌরবের সাথে দেশে ফিরিয়ে আনা সর্বোপরি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি ছাত্রসংগঠন যে ধরনের ভূমিকা পালন করে সেভাবেই সবাইকে নিয়ে ছাত্রদলকে পরিচালনা করবেন বলে জানান এই প্রার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে দল আমাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছিলো। কিন্তু সেই নির্বাচনে সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়।’

এর আগে গত ১৫ জুলাই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দিন ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় বলা হয়েছিল, ২০০০ সালের আগে যারা এসএসসি পাস করেছে, তারা কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবেন না।

তখন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ছাত্রদলের একাংশ বিদ্রোহ শুরু করেন। বাদ পড়া নেতারা বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে টানা বিক্ষোভ ও ভাংচুরের মতো ঘটনাও ঘটান। ফলে ১৫ জুলাই কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ