ফটো গ্যালারি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘না’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘না’ \

এওয়ান নিউজ: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবে ‘না’ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক- এ দুই পদে বেতন বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে তাতে সায় দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় সারাদেশের শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এরই মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠনগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে।

গত রোববার ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেনকে পাঠানো অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২-তে উন্নীত করার সুযোগ নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে গত ২৯ জুলাই বেতন বাড়ানোর এ প্রস্তাব পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর গ্রেড পরিবর্তনের এ প্রস্তাব করা হয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রাথমিক শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব না দেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে আগে থেকেই হতাশা রয়েছে। সরকারের ঘোষণা সেই হতাশাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদা দিলেও তারা জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব দপ্তরের কর্মকর্তারা বেতন পান দশম গ্রেডে। তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সহকারী শিক্ষকরা পান ১৪তম গ্রেডে বেতন। প্রস্তাব করা হয়েছিল, তারা ১২তম গ্রেডে উন্নীত হবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গতকাল বুধবার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন সম্মানজনক গ্রেডে নেওয়া। আগে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য ছিল এক গ্রেড। প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সমান করায় এখন সে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে তিন গ্রেড। এটি নিঃসেন্দেহে বৈষম্য। এ বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করা হয়েছিল।

বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় সারাদেশের শিক্ষকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, এটি শিক্ষকদের ব্যাপার। এখন বেশিরভাগ শিক্ষকই স্নাতক পাস। প্রাথমিক শিক্ষকদের নূ্যনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাও নির্ধারণ করা হয়েছে স্নাতক পাস। এ বিষয়ে গেজেটও জারি করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই অন্যান্য সরকারি চাকরিতে স্নাতক উত্তীর্ণদের জন্য যে বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে; প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনও তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া দরকার।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ