ফটো গ্যালারি

নিউ জিল্যান্ডের হাসপাতালে টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু

নিউ জিল্যান্ডের হাসপাতালে টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু \

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অসুস্থ অবস্থায় নিউ জিল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার একদিন পর পলিনেশীয় দেশ টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রী আকিলিসি পোহিভা মারা গেছেন।বুধবার রাতে অকল্যান্ডের সিটি হাসপাতালে ভর্তি করার পর বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয় বলে পোহিভার এক উপদেষ্টার বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

৭৮ বছর বয়সী এ প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের প্রথমদিকে যকৃতের জটিলতাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা নিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে টোঙ্গার রাজধানী নুকুয়া’লোফার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

সেখানকার চিকিৎসকরা জরুরিভিত্তিতে তাকে অকল্যান্ডের সিটি হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে বুধবার টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে।তার মৃত্যুর খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে টোঙ্গার পার্লামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।

গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত পোহিভার রাজনৈতিক জীবনে টোঙ্গার রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই মুখ্য হয়ে আছে। ২০০৬ সালে নুকুয়া’লোফায় গণতন্ত্রের দাবিতে দাঙ্গা শুরু হলে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা হয়েছিল।২০১৪ সালে টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য হওয়ার পর থেকে তিনি টোঙ্গার পার্লামেন্টের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী সদস্যতে পরিণত হন।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও অত্যন্ত সরব ছিলেন পোহিভা। সমুদ্র পৃষ্ঠের বাড়তে থাকা উচ্চতার কারণে হুমকির মুখে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন তিনি। দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

এক টুইটে তিনি বলেছেন, “টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রী মাননীয় আকিলিসি পোহিভার মৃত্যুর খবরে অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছি। তিনি গভীরভাবে নিজ জনগণের, তার ভালোবাসার টোঙ্গা ও আমাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিবারের অনুরাগী ছিলেন।”

পোহিভার মৃত্যুর খবর হওয়ার পর নিউ জিল্যান্ডের স্থানীয় নৃগোষ্ঠী বিষয়ক মন্ত্রী জেনি সালেসা এক টুইটে বলেন, “(এ মৃত্যু) আমাদের টোঙ্গানদের জন্য প্রভূত ক্ষতি।” জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে পোহিভা যে লড়াই চালিয়ে আসছিলেন তা অব্যাহত রাখা বিশ্বের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ফিজির প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ