ফটো গ্যালারি

শুক্রবার আইনজীবীদের সঙ্গে নীতি নির্ধারকদের বৈঠকের পর ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে সিদ্ধান্ত

তিনি প্রতিযোগী নন, কাউন্সিলরও নন, আবেদনও করেননি, তবে কেন স্থগিতের আদেশ: রিজভী

তিনি প্রতিযোগী নন, কাউন্সিলরও নন, আবেদনও করেননি, তবে কেন স্থগিতের আদেশ: রিজভী \

নিজস্ব প্রতিবেদক: আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠেয় ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান হয়নি এখনো। আগামীকাল শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দলের আইনজীবী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এওয়ান নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সংবাদ সম্মেলন করছেন। আর কাউন্সিল আগের তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে নাকি তারিখ পরিবর্তন হবে, সে বিষয়ে আগামীকাল (শুক্রবার) দলের আইনজীবী, মহাসচিব ও অন্যান্য নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। বৈঠকে আলোচনা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত আমরা সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেবো।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী
এদিকে, ছাত্রদলের কাউন্সিল আয়োজনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহ’র দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণরুপে অযৌক্তিক। কারণ ছাত্রদলের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রতিযোগী ছিলেন না এবং প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করেননি কিংবা তিনি কাউন্সিলরও নন। সুতরাং কোন বিচার বিশ্লেষণ ও যুক্তিতর্ক ছাড়া তার করা মামলার প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতের আদেশ দেয়া গভীর চক্রান্তমূলক।

তিনি বলেন, সরকারের কারসাজিতেই এহেন আদেশ প্রদান করা হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলরদের মধ্যে যে উৎসাহ ও স্বত:স্ফুর্ততার স্ফুরণ সৃষ্টি হয়েছিল সেটিকে বানচাল করার জন্যই এই আদেশ সরকারের মাস্টারপ্ল্যানের অংশ।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং ছাত্রদলের কাউন্সিল কেন্দ্র করে যে উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, তা স্তিমিত করতে সরকারের নির্দেশে আদালত এ কাজ করেছে। সরকার আদালতকে দিয়ে এ কাজ করিয়েছে। গণতন্ত্রের ওপর সরকারের এটি একটি আঘাত। ইতিহাসে সরকারের এই আঘাত কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর আদালতকে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পন্থায় ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচন নস্যাৎ করতেই সরকারের নির্দেশে এই আদেশ। এটি সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। এছাড়া ছাত্রদলের কাউন্সিল আয়োজনে কেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না, তা জানতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১০ বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চতুর্থ সহকারী জজ নুসরাত জাহান বিথি এ আদেশ দেন।

এদিকে, ছাত্রদলের কাউন্সিলে সভাপতি পদ প্রার্থী তানভীর রেজা রুবেল দাবি করেন, বৃহস্পতিবার বিএনপি কার্যালয়ে ‘অফিস আওয়ারে’র পর আদালতের নোটিশ পৌঁছানোয় সেটি কার্যালয় থেকে গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে, তাদের কাউন্সিলের নির্ধারিত তারিখ পরবর্তী কর্মদিবস রোববারের আগেই। ফলে নির্ধারিত তারিখেই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। বিএনপি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ