ফটো গ্যালারি

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত \

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা দুজনই যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামি। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রোহিঙ্গার সংখ্যা হলো ছয় জন।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউপির জামিদুড়া চাইল্ড ফেন্ডলি স্পেস অফিসের পেছনের পাহাড়ে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, এসময় তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন- এএসআই কাজী সাইফ উদ্দিন, কনস্টেবল নাবিল ও রবিউল ইসলাম।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাইল্ড ফেন্ডলি স্পেস অফিসের পেছনে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামিরা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে– এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে সেখান ওই দুই রোহিঙ্গাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধার করে রোহিঙ্গা মাঝি ও স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে টেকনাফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার পাঠানো হয়। সেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।’

নিহতরা হলো- টেকনাফ নিবন্ধিত নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের ৩৫১২২ নম্বর এমআরসিধারী ৮৮০/৬০ নম্বর সেডের ১/২ নম্বর রুমের বসবাসকারী সৈয়দ হোসেনের ছেলে নেছার আহাম্মদ ওরফে নেছার ডাকাত (২৭) ও একই ক্যাম্পের সি ব্লকের ৪৫৯৫০ নম্বর এমআরসিধারী ৮৩৮ নম্বর সেডের ১ নম্বর রুমের বসবাসকারী জমির আহম্মদের ছেলে আব্দুল করিম ওরফে করিম ডাকাত (২৪)। নিহত দুই জন মিয়ানমারের মংডু পুইমালী ও হাইসুরাতা এলাকার বাসিন্দা।

ওসি জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র, ৭ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ ও ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুই রোহিঙ্গার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শংকর চন্দ্র দেব নাথ বলেন, ‘পুলিশ রাতে গুলিবিদ্ধ দুই রোহিঙ্গাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। দুজনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরায় ২২ আগস্ট রাতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে (৩০) গুলি করে হত্যা করা হয়। তার বড় ভাই ওসমান গণি অভিযোগ করেন, একদল রোহিঙ্গা ডাকাত তার ভাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশের একটি পাহাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার পর ২৪ আগস্ট রাতে জাদিমুরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দু শুক্কুর ও ছব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শাহ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। ২৬ আগস্ট রাতে একই ক্যাম্পের হামিদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ হাসান ও ১ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ক্যাম্পের মৃত কালা মিয়ার ছেলে ডাকাত নুর মোহাম্মদ পুলিশের সঙ্গ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ