ফটো গ্যালারি

মহিপুর-আলিপুরের শিববাড়িয়া নদী দখল-দূষনে হারিয়ে যাচ্ছে

মহিপুর-আলিপুরের শিববাড়িয়া নদী দখল-দূষনে হারিয়ে যাচ্ছে \

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি, ১৩ সেপ্টেম্বর ঃ মহিপুর-আলিপুর মৎসবন্দরের শিববাড়িয়া নদী ২৫ বছর ধরে দখল ও দূষনে বিপন্ন হয়ে পড়েছে । সময়ের খড়স্্েরাতা নদীটি মানুষ ও প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবে এখন পরিনত হচ্ছে মরা নদীতে। নদীর দু-ধারে চর পরে কমে গেছে নদীর আয়তন। জেগে ওঠা চর দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছে বরফকল,ডক ইয়ার্ডসহ পাকা স্থাপণা। তৈরী হচ্ছে বাড়ি ঘর, মাছের আড়ৎ, ইটের ভাটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছের ঘের ও ফসলের ক্ষেত। নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ ভাবে দখল করা নদীর দু-ধারের শত শত একর পতিত জমি। প্রাকৃতিক কারনে পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্যতা কমে গেছে আশঙ্কাজনক ভাবে। ভাটার সময় এ নদী দিয়ে কোন লঞ্চ বা কার্গু চলাচল করতে পারে না। মাছ ধরার ট্রলার চলাচল করতে হয় গতি কমিয়ে অথবা ভাটা জোয়ার দেখে। দখলের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিববাড়িয়া নদী নৌযান চলাচলের সম্পূর্ন অনুপোযোগী হয়ে পরবে বলে মনে করেন, নদীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। ফলে মাছ ধরার ট্রলার প্রবেশ করতে না পারা এবং নিরাপদ অবস্থানের অভাবে মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরের অস্থিত্ব বিলিন হবার পথে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিববাড়িয়া নদীর দু-ধারের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন এলাকাবাসী।

মহিপুর থানাধীন সাবেক খাপড়াভাঙ্গা ও লতাচাপলী ইউনিয়নকে পৃথক করে রেখেছে এই শিববাড়িয় নদী। এখন অবশ্য উল্লেখিত ইউনিয়ন দুইটি ভেঙ্গে ধুলাসর ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন নামে আরও দুইটি নতুন ইউনিয়নের জন্ম হয়েছে। ৪ টি ইউনিয়নের সীমানা ঘেষেঁ শিববাড়িয়া নদীর অবস্থান। মহিপুর ইউনিয়নের নজীবপুর গ্রামের খালগোড়া থেকে শুরু হয়ে ধুলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর গ্রামের ধোলাই মার্কেট পর্যস্ত ৮ কিলো মিটার দীর্ঘ এ নদী দিয়ে এক সময় চলাচল করত লঞ্চ । বরিশাল থেকে মহিপুর, কলাপাড়া থেকে চাপলী, মহিপুর থেকে পটুয়াখালী বিভিন্ন রুটে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল ছাড়াও মহিপুর ও লক্ষীর হাটের খাদ্য গুদামের পন্য আনা নেয়ার কাজে কার্গো চলাচল করতে দেখা যেত যা এখন শুধুই স্মৃতি। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় কার্গুতো দূরের কথা মাছ ধরার ট্রলারও এখন চলতে পারে না। নদীর জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে, গতি কমিয়ে ধীরে ধীরে চলাচল করতে হয় মাছ ধরার ট্রলার গুলোকে। এতে সময় অনেক বেশি লাগে এবং মাছ বিক্রি করতে অসুবিধা হয় বলে জানিয়েছেন, অনেক জেলে মাঝি এবং ট্রলার মালিক।

মহিপুর -আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির দেয়া তথ্য মতে বাংলাদেশের অন্যতম সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ও বিপনন কেন্দ্র মহিপুর-আলীপুর বন্দরে ছোট বড় মিলিয়ে মাছের আড়ত আছে প্রায় দুইশত। বরফ কল আছে ৪৬ টি। এছাড়াও এ পেশাকে কেন্দ্র করে এখানে শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন মহিপুর-আলীপুর থেকে কয়েক’ম টন হিমায়িত মাছ বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় রপ্তানী করা হয়। সারা দেশে বর্তমানে যে ইলিশের চাহিদা রয়েছে তার অনেকটাই পূরণ হয়ে থাকে মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুরে আহরিত মাছ থেকে। এ খাত থেকে সরকার প্রতি বছর প্রচুর পরিমান রাজস্ব আয় করে থাকে। তাছাড়া জেলে, আড়ৎদার, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, মালিক, মহাজন মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে । যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এই বন্দরের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা থাকা সত্যেও মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরের উন্নয়নে চোখে পড়ার মত তেমন কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। নদী সংলগ্ন মহিপুর-আলীপুর বন্দরের সরকারি জমি বেদখল করে তৈরী করা হয়েছে অনেক স্থাপনা। অনেকে ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদীর চরকে চান্দিনা ভিটি দেখিয়ে ডিসিআর নিয়েছেন অবৈধ ভাবে।

সরেজমিন পরিদর্শনে এ ধরনের প্রায় শতাধিক ডিসিআরের সন্ধান পাওয়া গেছে যা প্রথমে বন্ধোবন্ত দেয়া হলেও পরে আবার বাতিল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ: মালেক আকন জানান, শিববাড়িয়া নদীর ড্রেজিং কাজ জরুরী ভিত্তিতে শুরু করা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবন জী্িকা হুমকীর মুখে পরবে। লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান মো: আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, মহিপুর আলীপুর মৎস্য বন্দরের উপর নির্ভর করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। নাব্যতার অভাবে এ বন্ধরটি কার্যকারিতা হারালে তা এলাকার অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে। তাই এলাকাবাসীর দাবী পটুয়াখালী জেলার সমুদ্র উপকুলবর্তী গুরুত্ববহনকারী এই শীববাড়িয়া নদীকে বাচাঁতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের এখনই নজর দেওয়া উচিত। অন্যথায় এই নদীটি হারিয়ে গিয়ে নালায় পরিনত হবার আশংকা রয়েছে ।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ