ফটো গ্যালারি

স্থগিত কাউন্সিল নিয়ে ছাত্রদলই সিদ্ধান্ত নেবে: মির্জা আলমগীর

স্থগিত কাউন্সিল নিয়ে ছাত্রদলই সিদ্ধান্ত নেবে: মির্জা আলমগীর \

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাউন্সিলের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশের ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, ছাত্রদলের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে তার আইনসম্মতভাবেই হয়েছে।

রাতে দলের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে সিনিয়র আইনজীবীদের বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব এই কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘‘ ছাত্র্র দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যান অর্থাৎ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই নিয়েছেন। আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই পারেন এই সিদ্ধান্ত নিতে, তিনি নিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ লিগ্যাল। এখন পর্যন্ত যা হয়েছে কোনোটাই বেআইনি হয়নি, সব কিছুই আইনসম্মত হয়েছে।”

ছাত্র দলের কাউন্সিলের বিষয় কি হবে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ এটি ছাত্র দলের বিষয়। ছাত্র দলের বিষয়ে তারা আলোচনা করছে। তাদের(ছাত্র দল) সিদ্ধান্ত তারা নে্বে।”

‘‘ আমরা বিএনপি এর সঙ্গে কোনো মতেই জড়িত নই।” একই সঙ্গে বিএনপিকে পক্ষ করে আদালত যে কারণ দশানোর নোটিস দিয়েছে তার জবাব দেবে বলে জানান ফখরুল।

‘‘ আমাদের বিরুদ্ধে যেমন আমাদেরকে পক্ষ করা হয়েছে। আমরা আমাদের উত্তরগুলো আদালতের কাছে যথা সময়ে দেবো। সেই ব্যবস্থা নেবো। জবাবগুলো দিবো। তবে ছাত্র দলের সিদ্ধান্ত ছাত্র দলই নেবে, এখন যারা দায়িত্বে আছে তারাই বলবে।”

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহনের কথা ছিলো। সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে কাউন্সিলর কার্ড বিতরনের সময়কালে ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিদায়ী ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহর একটি আবেদনে বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ সহকারি জজ নুসরাত জাহান এই স্থগিতাদেশ দেন।

আদালত এই কাউন্সিলের অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার প্রশ্নে কারণ দশানোর নোটিসও দিয়ে্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক খায়রুল কবির খোকনসহ ১০ বিবাদীকে ১০ দিনের নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘সরকার কী চায়?’
বিএনপি মহাসচিব প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘‘ গতকাল রাতে সকলের অগোচরেই আদালতের এই স্থগিতাদেশ এসে্ছে। যেটা দ্যা প্রেসেস ইনসেলফ মিস্টিরিয়াস। বুঝা যায় এখানে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ আছে, হস্তক্ষেপ আছে বলেই এই স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে।

‘‘ বাংলাদেশে বর্তমান সরকার যারা আছেন যারা নির্বাচিত সরকার নয়, তাদের জবাবদিহিতা নেই তারা কী চান? তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কী গণতন্ত্রের একটা ন্যুনতম যে পরিস্থিতি-পরিবেশ থাকুক, না সেটা তারা চান না। দুঃখজনকভাবে তারা ব্যবহার করছেন আদালতকে। যেটা কখনোই কোনো গণতান্ত্রিক কোনো রাষ্ট্রের জন্য, জাতির ভবিষ্যতের জন্য শুভ হতে পারে না।”

‘আদালতকে ব্যবহার করে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ আজকে বর্তমান সরকার যে একটা রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করছেন, এই সংস্কৃতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আদালতকে দিয়ে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা। যেটা আমি মনে করি যে, অত্যন্ত ভয়াবহ একটা বিষয়।”

‘‘ দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করলাম যে, গত ১০ বছর ধরে এই্ কাজটি তারা এখানে করলেন। তারা আদালতকে দিয়ে কেয়ার টেকার গর্ভমেন্ট সিষ্টেম যেটা বাংলাদেশের মানুষের এই একটা গ্রহনযোগ্যা শুধ না, একটা আশা-আকাংখার স্থান ছিলো যে, এই একটা দিন অন্ততঃ আমরা ভোটটা দিতে পারবো। এটা তাদেরই(আওয়ামী লীগ) নিয়ে আসা, তারাই এই কেয়ারটেকার ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিলেন তারাই আবার আদালতকে ব্যবহার করে কেয়ার টেকার সিষ্টেম থেকে সরে গেলেন এবং দেশ ও জাতিকে স্থায়ীভাবে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার দিকে তারা ঠেলে দিলেন। যেটা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন এটা আজকে প্রমাণিত হলো।

ফখরুল বলেন, ‘‘ এই সরকার আদালতকে ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন রকমের আইন-কানুন তৈরি করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। বিগত নির্বাচনের সময়ে আপনারা দেখেছেন যে, কত জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছেন। কীভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের মেয়র তাদের প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়া হয়েছে যেটা আইনের মধ্যে একরকম আছে সেটাকে আদালতের মাধ্যমে বাতিল করে দেয়া হয়ে্ছে। মেয়রদের বেলা আইনে বলা আছে তারা নির্বাচন করতে পারেন তবে নির্বাচিত হলে তারা ছেড়ে দেবেন। এটাকে সম্পূর্ণ ভায়োলেটেড করে তারা অন্য কাজ করেছেন।”

‘‘ এই যে আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, আদালতকে দলীয়করনের দিকে নিয়ে যাওয়া-এটা দেশের জন্য ও জাতির জন্য শুভ কোনো কিছু বয়ে আনতে পারে না।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘ ছাত্র দল একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তারা পরবর্তি নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে যাচ্ছে কাউন্সিলের মাধ্যমে। এটাকে আবসেট করা জন্যে …। আজকে কাউন্সিল স্থগিত করার মানে কী?”

‘‘ আপনি পলিটিক্যাল পার্টির কাজ বন্ধ করে দিচ্ছেন- এটা নজিরবিহীন। আপনাদের মনে থাকা উচিত, ১/১১ ‘র পরে আমাদের দলের সেক্রেটারি জেনারেল পদ নিয়ে কোর্টে গিয়েছিলো। কোর্ট ওই সময়ে পরিস্কার বলে দিয়েছিলো যে, কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে আদালতের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আমরা দেখেনি যে, পলিটিক্যাল পার্টির কার্য্ক্রমে আদালত যুক্ত হচ্ছে।”

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম আলমগীর ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

দলের আইনজীবীদের মধ্যে ছি্লেন, জয়নাল আবেদীন, এজে মোহাম্মদ আলী, নিতাই রায় চৌধুরী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কায়সার কামাল, আসাদুজ্জামান আসাদ, ওমর ফারুক ফারুকী, জয়নাল আবেদীন মেজবাহ এবং সাবেক ছাত্র নেতাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান ও আকরামুল হাসান ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ