ফটো গ্যালারি

প্রায় ৩০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো!

প্রায় ৩০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো! \

সৈয়দ তরিকুল্লাহ আশরাফী, হালুয়াঘাট: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া এই দুটি উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে, বাঁশের সাঁকোই রয়েছে তাদের একমাত্র ভরসা। হালুয়াঘাট উপজেলার আলিশা বাজার হয়ে নিশ্চিন্তপুর ও বটগাছিয়া কান্দা গ্রামের মাঝখান দিয়ে কংশ নদী প্রবাহিত হয়ে ধোবাউড়া উপজেলা বাঘবেড় ইউনিয়নের মিলন বাজারের কুল ঘেষে বয়ে আসা গোদারিয়া নদীতে মিলিত হয়। নদীর পাড়ে মিলন বাজারে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে হাজারও শিক্ষার্থী। ঝুকি নিয়ে এইসব শিক্ষর্থীরা বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করছে বলে জানান স্থানীয়রা। খামার বাসা, মিলন বাজার, নিশ্চিন্তপুর বটগাছিয়াকান্দা সহ ১০ গ্রামে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে আসা-যাওয়া করে।

খামার বাসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমীর হোসাইন বলেন, গোদারিয়া নদীর উপরে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে তিন-চারশত শিক্ষার্থী নিত্যদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়। এতে বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাই বর্তমান সরকারের কাছে এই নদীর উপরে একটি ব্রীজের জন্য জোর দাবী জানাই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী খায়ের উদ্দিন আহম্মদ কবির বলেন, এক সময় এই ঘাটে কেয়া নৌকা চলতো। বেশ কয়েকবার নৌকা ডুবে প্রানহানী ঘটনা ঘটার কারণে এলাকাবাসীর উদ্ধোগে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে নিজেরাই বাঁশের সাঁকোটি তৈরী করে। তাই গোদারিয়া নদীর উপর একটি আর.সি.সি ব্রীজ স্থাপনে স্থানীয় সংসদ জুয়েল আরেং এর সহযোগিতা কামনা করছি।

মোঃ কামাল হোসাইন বলেন, নদীর আশে-পাশে বেশ কয়েকটি অবহেলিত গ্রাম রয়েছে। আর এইসব গ্রামগুলো কৃষি নির্ভর হওয়ায় তাদের উৎপাদিত পণ্য উপজেলা বা জেলা শহরে বাজারজাত করতে পারে না। এতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। গোদারিয়া নদীর উপর একটি ব্রীজ হলে দুই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবহেলিত গ্রামের মানুষগুলোর উৎপাদিত ফসল, ব্যবসা-বানিজ্য সহ যাতায়াতের সহজ উপায় হবে।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম বলেন, দুই উপজেলার সেতুবন্ধনে বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং এর মাধ্যমে গোদারিয়া নদীতে ব্রীজ স্থাপনে সর্বাত্বক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন। হালুয়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগর বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু নদী-খালের উপর ব্রীজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিলডোড়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর রহেলা ও বটগাছিয়া কান্দা গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে আসা গোদারীয়া নদী উপর ব্রীজ স্থাপনে খুবই প্রয়োজন, তাই পরবর্তিতে ব্রীজটি কনস্ট্রাকশনের জন্য পাঠাবো।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ