মধ্যবিত্তের ক্ষুধার মন্দা!

প্রকাশিত

মুঃ সালাহ উদ্দীন

প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করেন এক লোক,
স্ত্রী ছেলে মেয়ে সহ পাচঁ জনের সংসার।
বড় ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে, ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণীতে আর একমাত্র মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে।
চাকরীর সুবাদে শহরে থাকতে হয় একটা ভাড়া বাসায়।
হাজার চল্লিশেক টাকা বেতন দিয়ে চলছিলো উনাদের সংসার ভালোমতোই।

ছেলে মেয়ের লেখাপড়া সহ স্বাভাবিক স্বচ্ছল জীবন ছিলো তাদের।
তেমন টাকা জমা না থাকলে ও প্রতি মাসের টাকা দিয়ে পুরো মাস সুন্দরভাবে অতিবাহিত হতো।

কিন্তু হঠাৎ নেমে এলো করোনা ভাইরাসের অন্ধকার ছায়া।
অফিস বন্ধ, চাকরী নেই, বাসায় বসে বসে কাটাতে হচ্ছে এই দুঃসময়।
গত মাসের যে টাকাটা ছিলো তা দিয়ে বাজার করেছে কিছু আর অর্ধেক গেছে বাসা ভাড়ায়;
কোনমতে কেটেছে গত মাস।

কিন্তু অফিস বন্ধের একমাস পার হলো
অফিস থেকে বেতন দিতে চাচ্ছে না, অনেক বলার পর
১০০০০ টাকা দিছে মাত্র।
হাতে নেই কোন জমা। এদিকে বাসা ভাড়া দেয়ার জন্য বাড়িওয়ালা তাগাদা দিচ্ছে বারবার।
বাসা ভাড়া দিলে পরের দিন থেকে অনাহারে থাকতে
উনাদের।

এই সব চরম হতাশা আর দুর্দশার কথা ভাবতে ভাবতে
চোখে ছলছল করে পানি গড়িয়ে আসছে!
আত্মসম্মানবোধ থাকার কারণে কারো কাছ থেকে কিছু চেয়ে নিতে পারতেছেনা।
আর কাউকে বলতে পারতেছেনা চক্ষু লজ্জায়।

এই যেন চরম সংকটময় মূহুর্ত্ব অতিবাহিত হচ্ছে উনাদের
অর্ধাহার আর অনাহারে কাটছে দিন
আর সাথে যুক্ত হয়েছে ক্ষুধার যন্ত্রনা।
স্ত্রীর মুখে হাহাকারের চিহ্ন!
যেন এক অমাবস্যা ঘিরে রেখেছে উনাদের।

ছেলে মেয়েদের অন্য আহ্লাদ তো দূরের কথা,
ক্ষুধা নিবারণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সামাজিক মর্যাদা থাকার কারণে নিম্মবিত্ত মানুষেরা সাহায্য চায় উনাদের থেকে;
এই যেন দুর্ভোগের উপর দুর্ভোগ।

মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকেরা নানান সমস্যায় জর্জরিত এই করোনা কালে। আমাদের দেশের বৃহৎ একটা জনগোষ্ঠি মধ্যবিত্ত এরা প্রায় পড়েছেন এই সমস্যায়।
করোনার এই দুর্যোগকালীন সময়ে সরকার , বিভিন্ন সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিত্তবানরা বিভিন্ন দান করলে ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী এর বাইরে রয়ে যায়।

এর কারণ ও আছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকেরা
হাত পাততে পারেন না।
বিত্তবানরা সাহায্য দেয় আর নিন্মবিত্তরা সাহায্য নেয়
আর মাঝখানে ক্ষুধার মন্দায় থাকে মধ্যবিত্তরা!

করোনার এই দুঃসময়ে মধ্যবিত্তরা ও যাতে ভালো থাকে
সেই দৃষ্টি হোক সরকার আর বিত্তবানদের কাছে
এটাই কাম্য।

___________মুঃ সালাহ উদ্দীন
____________কবি, লেখক
______________চট্টগ্রাম